কোরআনেই আছে ব্লাকহোলের ইতিকথা

0

 আব্দুর রহমান আল হাসান ।

ব্লাকহোলের কথা আমরা সকলেই জানি আগে যখন ব্লাকহোলের নাম শুনতাম , তখন ভাবতাম এটা খায় না মাথায় দেয় আচ্ছা , আজকে আমরা জানবো , ব্লাকহোল কিছু অজানা তথ্য ব্লাকহোল  হলো , মহাকাশের এমন স্থান , যার মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এতই প্রখর যে তার থেকে কোনো কিছুই পালাতে পারে না এমনকি আলোর রশ্মিও ১৯১৬ সালে আইনিস্টাইন জেনারেল থিউরীর মাধ্যমে ধারণা করেন , ব্লাকহোল সম্ভব আর ১৯৯৪ সনে নভোচারীরা তা প্রমাণ করেন ব্লাকহোলের সর্বপ্রথম ছবি প্রকাশ পায় , ২০১৯ সনে  

2019 সনে তোলা ব্লাকহোলের প্রথম তোলা ছবি

তার পিছনের গল্পটা বলি ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৬ সালে লাইগো মহাকর্ষ তরঙ্গের প্রথম প্রত্যক্ষ সনাক্তকরণের ঘোষণা দেয় , যা ছিল দুইটি ব্লাকহোলের একত্রীভবনের প্রথম পরযবেক্ষণ ডিসেম্বর ২০১৮ পরযন্ত ১১ টি মহাকর্ষীয় তারঙ্গিক ঘটনা পরযবেক্ষিত হয়েছে যার মাঝে ১০ টি ঘটনা ব্লাকহোলের একত্রীভবনের মধ্যে আর একটি হলো দৈত্ব নিউট্রন তারা একত্রীভবনের ফলে সৃষ্ট ২০১৭ সনে ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপ দ্বারা মেসিয়ে ৮৭ ছায়াপথের কেন্দ্রে অবস্থিত অতিভারী ব্লাকহোলের পরযবেক্ষণের পর , দীর্ঘ বিশ্লেষণ শেষে ১০ এপ্রিল ২০১৯ সালে প্রথমবারের মত একটি ব্লাকহোলের এবং তার পার্শবর্তী ঞ্চলের চিত্রধারণ করা হয় এখন কথা হলো , এইসব ব্লাকহোলের জন্ম কিভাবে  হয় ?

সাধারণত কোনো একটি তারা যখন তার জ্বালানি শেষ করে মৃত্যুমুখে পতিত হয় , তখনি তা ব্লাকহোলে রুপ নেয় । বিজ্ঞানীদের মতে , সবচেয়ে ছোট ব্লাকহোলটির জন্ম এই মহাবিশ্বের জন্মের সময় । নক্ষত্রের মধ্যে যতক্ষণ হাইড্রোজেন গ্যাস অবশিষ্ট থাকে , ততক্ষণ পর‌্যন্ত এর মধ্যে বিক্রিয়া চলতে থাকে । এই গ্যাস শেষ হয়ে গেলে এর মধ্যিখানে সংকুচিত হতে থাকে । এভাবেই এটি মৃত্যুমুখে পতিত হয় । আর ব্লাকহোলের মহাকর্ষ খুবই শক্তিশালী । এর মধ্যে কোনো কিছু প্রবেশ করলে সে আর বের হতে পারে না । এমনকি আলোও নয় ।

এবার আমরা জানবো , ২০১৯ সনে যেই ব্লাকহোলের ফটো ধারণ করা হয় , তার কিছু অজানা তথ্য । এটার অবস্থান আমাদের পৃথিবী থেকে ৫০০ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের এক গ্যালাক্সি । তার কেন্দ্রে রয়েছে এই ব্লাকহোলটি । বিজ্ঞানীরা এটার নাম দিয়েছেন এম ৮৭ ।

এবার আমরা জানবো , কোরআন এই ব্লাকহোল সম্পর্কে আমাদের কি বলে ?

বিজ্ঞানের সহায়তায় আমরা অবগত হয়েছি যে, শেষ পর্যন্ত সূর্যের পারমাণবিক জ্বালানী ফুরিয়ে যাবেএবং এরজন্য আরও প্রায় পাঁচশত কোটি বছর সময় লাগবে। যে সমস্ত তারকার ভর সূর্যের ভরের চেয়ে অধিক, তারা তাদের জ্বালানী আরো দ্রুত জ্বালীয়ে শেষ করবে। তবে সূর্যের ভরের দ্বিগুনের চেয়ে কম ভর-সম্পন্ন তারকাগুলো শেষে সংকুচিত হওয়া বন্ধ করবে এবং একটা সুস্থির অবস্থায় স্থিতি লাভ করবে। এ রকম একটি অবস্থার নাম “শ্বেত-বামন” এবং আর একটি অবস্থার নাম “নিউট্রন-তারকা” ।আমাদের নিহারিকায় বহু শ্বেত-বামন ও নিউট্রন-তারকা পর্যবেক্ষণ করা যায়। নিউট্রন-তারকাগুলো ১৯৬৭ সালের আগে দেখা যায়নি।

যেহেতু সূর্যের জ্বালানী ধীরে ধীরে কমে আসছেসুতরাং এর তাপ বিকিরণ তথা আলোক বিকিরণের পরিমাণও ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে অর্থাৎ সূর্যটা আস্তে আস্তে নিসপ্রভ হয়ে আসছে কিন্তু সূর্যের আলোর ঔজ্জ্বল্য এত বেশী যেএই হ্রাসপ্রাপ্তি সূহ্ম বৈজ্ঞানিক গবেষণা ছাড়া খালি চোখে বা বাহ্যিকভাবে অনুভব করা যায় না অথচ এই বিষয়টি অনেক কাল আগেই আলকোরআনের ছোট্ট একটি আয়াতে কত সুন্দরভাবে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।

যখন সূর্য জ্যোতিহীন বা নিষপ্রভ হবে। সূরা তাকভীর, (৮১:১)
When the sun will be lusterless or dim, 

তাছাড়া ধীরে ধীরে যে আকাশে নক্ষত্রগুলো স্তিমিত হবে ও নিভে যেতে থাকবে অর্থাৎ অসংখ্য শ্বেত-বামন ও নিউট্রন-তারকার সন্ধান পাওয়া যাবে তা আল-কোরআনে প্রদত্ত এই আয়াত দুটি থেকে বুঝে নেয়া যায়

যখন নক্ষত্ররাজি স্তিমিত হবে বা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে বৃহদাকৃতির ঢেলায় পরিণত হবে। (৮১:২)
And when the stars will be lusterless or turned in to gigantic lumps ( of mass) after being covered with darkness.যখন নক্ষত্ররাজি নিভে যাবে বা আলোবিহীন হবে। (৭৭:৮)
So when the stars will be extinguished.

প্রথমবারের মতো ব্ল্যাক হোলের ছবি দেখতে পেলো বিশ্বের মানুষ। ব্ল্যাকহোল হলো এমন একটি স্থান যেখানে তারকারা গিয়ে অদৃশ্য হয়ে যায়। এমনকি যে আলোর সাহায্যে আমরা সব কিছু দেখি, সে আলোও ব্ল্যাক হোলের কাছে এসে অদৃশ্য হয়ে যায়। এ কারণেই এর নাম দেয়া হয়েছে ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর। যদিও প্রথম আমরা ব্ল্যাক হোলের ছবি দেখতে পেয়েছি, কিন্তু, এই ব্ল্যাক হোলের আইডিয়াটা অনেক আগেই আমরা কোর’আন থেকে জেনেছি।

কোরআনে আরো বলা হয়েছে –

وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى

তারকা বা নক্ষত্রের শপথযখন তা অদৃশ্য বা হাওয়া হয়ে যায়।” [সূরা ৫৩/নাজম – ]

অর্থাৎব্ল্যাক হোলে যেসব তারকা পতিত হয়সেসব তারকার শপথ করা হচ্ছে এখানে

এরপর সূরা ওয়াকিয়াহতে নক্ষত্র পতিত হবার স্থানের কথাও উল্লেখ রয়েছে

لَا أُقْسِمُ بِمَوَاقِعِ النُّجُومِ * وَإِنَّهُ لَقَسَمٌ لَوْ تَعْلَمُونَ عَظِيمٌ

অতএবআমি তারকারাজির পতিত হবার স্থানের (ব্ল্যাক হোলেরশপথ করছি। নিশ্চয় এটা একটা মহা শপথযদি তোমরা জানতে।” [সূরা ৫৬/ওয়াকিয়াহ – ৭৫৭৬]

উপরোক্ত আয়াতে যে মাওয়াকিআ (مَوَاقِعِশব্দটি ব্যবহার করা হয়েছেতার অর্থ হলো পতিত হবার স্থান। কোরআনে অন্য একটি স্থানেও  শব্দটি রয়েছে

وَرَأَى الْمُجْرِمُونَ النَّارَ فَظَنُّوا أَنَّهُمْ مُوَاقِعُوهَا وَلَمْ يَجِدُوا عَنْهَا مَصْرِفًا

অপরাধীরা আগুন দেখে ধারণা করবে যেতারা সেখানে পতিত হবে। এবং এখান থেকে তারা রাস্তা পরিবর্তন করতে পারবে না।” [সূরা ১৮/কাহফ – ৫৩]

সূরা ওয়াকিআর ৭৫ নং আয়াতে “মাওয়াকিআ” শব্দের দ্বারা তারকাদের পতিত হবার স্থানের কথা বলা হয়েছেআর সূরা কাহাফের ৫৩ নং আয়াতে অপরাধীদের পতিত হবার স্থানের কথা বলা হয়েছে। অপরাধীরা যেমন জাহান্নামের আগুন থেকে পালিয়ে যেতে পারে নাতেমনি ব্ল্যাক হোলের কাছাকাছি আসলে কোনো নক্ষত্র  তারকাও পালিয়ে যেতে পারে না

এছাড়াসূরা তাকভীর সম্পূর্ণটাই ব্ল্যাক হোলের ধারণা দিয়েছে

إِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ

যখন সূর্য আলোহীন হয়ে যাবে।” [সূরা ৮১/তাকভীর – ]

সূর্যের আলোও ব্ল্যাক হোলের কাছে আসলে অন্ধকার হয়ে যায়এমনকি গোটা কয়েক সূর্যকে ব্ল্যাক হোল মুহূর্তের মধ্যেই অদৃশ্য করে দিতে পারে

একই সূরার অন্য আয়াতে বলা হয়েছে –

فَلَا أُقْسِمُ بِالْخُنَّسِ * الْجَوَارِ الْكُنَّسِ

আমি শপথ করছি সেসব নক্ষত্রেরযারা পশ্চাতে সরে যায়চলমান হয়এবং অদৃশ্য হয়ে যায়।” [সূরা ৮১/তাকভীর – ১৫১৬]

সূরা তাকভীরের পরবর্তী সূরাতেও ব্ল্যাক হোলের ধারণা দেয়া হয়েছে

إِذَا السَّمَاءُ انْفَطَرَتْ * وَإِذَا الْكَوَاكِبُ انْتَثَرَتْ

যখন আকাশ বিদীর্ণ হবেএবং নক্ষত্রসমূহ ঝরে পড়বে।” [সূরা ৮২/ইনফিতার – ]

অর্থাৎআকাশ বিদীর্ণ হওয়া মানে আকাশের মধ্যে অসংখ্য ব্ল্যাক হোল সৃষ্টি হওয়াএবং নক্ষত্রসমূহ সেখানে গিয়ে পড়ে যাওয়া

আল্লাহ আরো বলেনঃ

আর ক্ষিপ্রগামীদের ত্বরিত এগুনোয়,  আর সন্তরণকারীদের দ্রত সন্তরণে, (3) আর অগ্রগামীরা এগিয়েই চলেছে। (সূরা নযিয়াত,২-৪) 

[এখানে, সাবেহুন=(অর্থ)-সন্তরণকারী ও সা-বেহা-তুন=(অর্থ)-তারকা

বিজ্ঞানের বর্ণনায় আমরা জেনেছি যে, তারকার কাজ হলো পারমাণবিক জ্বালানী জ্বালীয়ে শেষ করা এবং যে তারকার ভর যত বেশী সেই তারকা তার জ্বালানী তত দ্রুত জ্বালীয়ে শেষ করে। “আর সন্তরণকারীদের দ্রত সন্তরণে”  বলতে যে সমস্ত তারকা তাদের জ্বালানী দ্রুত জ্বালীয়ে শেষ করে সেগুলোকে বোঝানো হয়েছে, অর্থাৎ পরোক্ষভাবে এখানে অধিক ভরসম্পন্ন তারকার প্রতিই ইংগিত দেয়া হয়েছে। আমরা এটাও জানি যে, সূর্যের চেয়ে দ্বিগুণ বেশী ভরসম্পন্ন তারকাগুলো অবশেষে কৃষ্ণগহ্বরে রূপান্তরিত হতে পারে। সুতরাং অধিক ভরসম্পন্ন তাবকাদের মধ্য থেকে যেগুলো কৃষ্ণগহ্বরে রূপান্তরিত হচ্ছে এদের কাজ সম্পর্কেও ইংগিত দেয়া হয়েছে। অল্লাহতায়ালার নির্দেশমত বিশেষ বিশেষ কাজগুলো সুচারুরূপে সম্পন্ন করার জন্য যে তারা নিয়োজিত, এই বিষয়টি এখানে ফুটে উঠেছে। যেহেতু এই আয়াতের শেষে পুণরুত্থানের বিষয়টি এসেছে। সুতরাং প্রতি-বস্তু জগৎ সৃষ্টি এবং কিয়ামত বা মহাপ্রলয় সংঘনের কোন বিশেষ প্রক্রিয়ার সাথে মহান আল্লাহপাক এগুলোকে নিয়োজিত রেখেছেন বলে ধরে নেয়া যেতে পারে।

পবিত্র কোরআনে এমন কোন বৈজ্ঞানিক তথ্য নেই যা ভুল বলে প্রমাণিত হয়েছে। জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণে কিছুদিন পূর্বেও মানুষ যে সমস্ত তথ্য সম্পর্কে বিভ্রান্তিতে ছিল, জ্ঞান সাধনার ফলে তার অনেকটাই আজ সত্যের আলোয় উদ্ভাসিত হয়েছে। এভাবে অল্লাহতায়ালা বার বার প্রমাণ করে দেখান যে, আল-কোরআনে প্রদত্ত বৈজ্ঞানিক ঐশী তথ্যগুলো যেমন সত্য, ঐশী আইন-কানুনগুলোও তেমনই অকাট্য ও সত্য এবং সর্বকালেই কল্যাণকর। মহান স্রষ্টা চান, বিশ্বাসী মানুষেরা যেন এইসব ঐশী তথ্য সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণাব মধ্য দিয়ে আধুনিক আবিষ্কারগুলোকে যাঁচাই করে নিয়ে প্রকৃত সত্যের সন্ধান লাভ করতে পারে এবং আল্লাহর মহত্ব ও করুণার কথা স্মরণ করার সাথে সাথে একমাত্র তাঁরই কাছে মাথা নত করে।

কৃষ্ণগহ্বরগুলো কত বড়?
কৃষ্ণগহ্বর আকারের একটি পরিসীমা আসতে পারে, কিন্তু এখানে প্রধান তিন ধরনের কৃষ্ণগহ্বর আছে। কৃষ্ণগহ্বর এর ভর এবং আকার নির্ধারণ করে এটা কি ধরনের হবে।

ক্ষুদ্রতম আদিম কৃষ্ণগহ্বর হিসাবে পরিচিত হয়। বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন যে এই ধরনের কৃষ্ণগহ্বরটি একক পরমাণুর মতো ছোট কিন্তু একটি বড় পাহাড়ের ভরের মতো।

মাঝারি আকারের কৃষ্ণগহ্বরগুলির সর্বাধিক সাধারণ প্রকারকে বলা হয় "স্টেলার।" সূর্যের ভরের চেয়ে বড় আকারের কৃষ্ণগহ্বরের ভর 20 গুণ বেশি হতে পারে এবং প্রায় 10 মাইল ব্যাসের মধ্যে একটি বলের ভিতরে বসে যেতে পারে। মিল্কী ওয়ে গ্যালাক্সিতে কয়েক ডজন কৃষ্ণগহ্বর "স্টেলার" থাকতে পারে।

বৃহত্তম কৃষ্ণগহ্বরকে "supermassive" বলা হয়। এই কৃষ্ণগহ্বরগুলিতে মিলিয়ন মিলিয়নেরও বেশি সূর্য মিলিত হয় এবং সৌরজগতের আকারের ব্যাসের সাথে একটি বলের ভিতরে বসে যায়। বৈজ্ঞানিক প্রমাণগুলি নির্দেশ করে যে প্রতিটি বড় গ্যালাক্সিটিতে তার কেন্দ্রস্থলে একটি অতিস্বনক কৃষ্ণগহ্বর রয়েছে। মিল্কী ওয়ে গ্যালাক্সিটির মাঝখানে অবস্থিত অতিপ্রাকৃত ব্ল্যাকহোলকে স্যাচুটিরিস এ বলা হয়। এটিতে প্রায় 4 মিলিয়ন সূর্যের সমান ভর রয়েছে এবং সূর্যের আকারের ব্যাসের সাথে একটি বলের ভিতরে বসে যাবে।

এটা ছিল মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান NASA এর দেওয়া তথ্য। কিন্তু বিস্ময়কর হলেও সত্যি যে আজ থেকে চৌদ্দশ বছর আগে মহান আল্লাহ তাআলা মহাকাশের কৃষ্ণগহ্বর সম্পর্কে সামান্য ধারনা দিয়েছেন। মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেন, "অতপর আমি শপথ করছি তারকাগুলোর অস্তাচলের। সত্যিই (আমার গোটা সৃষ্টির নৈপুণ্যের আলোকে) তা হচ্ছে এক মহা শপথ, যদি তোমরা জানতে।" —সূরা ওয়াকিয়াহ, আয়াতঃ ৭৫-৭৬।

তৎকালীন সময়ে মানুষদের মুষ্টিমেয় লোক ব্যতীত অধিকাংশ মানুষ নক্ষত্রমন্ডলীর অবস্থান সম্পর্কে জানতো না, আর জানতো না বলেই খালি চোখে দেখে নক্ষত্রগুলোকে দেখে চিনতো না। এজন্যই পরবর্তী আয়াতে বলা হচ্ছে, তোমরা যদি জানতে, তবে এটা খুবই গুরুতর শপথ। অবশ্য ইদানীংকালে আমরা এই শপথের গুরুত্ব আমাদের পূর্বসূরীদের চেয়ে ভাল জানি।

" অতপর আমি শপথ করছি তারকাগুলোর অস্তাচলের। সত্যিই তা হচ্ছে এক মহা শপথ, যদি তোমরা জানতে। " কুরআনের এই দুই টি আয়াত আধুনিক বিজ্ঞান কে তাক লাগিয়ে দেওয়ার মত তথ্য প্রকাশ করছে। 'তারকাগুলোর অস্তাচল' অর্থাৎ নক্ষত্রসমুহ যেখানে ডুবে যায় বা ধ্বংস হয় সেই জায়গার কথা বল হয়েছে। যে জাগায় নক্ষত্রের পতন হয়ে সে জায়গার শপথ নেওয়া হয়েছে। কৃষ্ণগহ্বর সম্পর্কে মানুষ তখন কিছুই জানতো না। তাই মহা আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন মহা শপথের কথা।

এই আয়াতের মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাআলা বর্তমান আধুনিক বিজ্ঞানমনস্ক মানুষদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছেন প্রকৃত সৃষ্টিকর্তাকে। মহাকাশের মধ্যে গর্ত থাকতে পারে নক্ষত্রগুলো এটা মধ্যে ঢুকলে হারিয়ে যেতে পারে, এটা কেবল সৃষ্টিকর্তা ছাড়া চৌদ্দশ বছর পূর্বে আর কে বা দিতে পারে

সুত্র; উইকিপিডিয়া । বিজ্ঞানচিন্তা ও ইন্টারনেট

লেখক

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(আমি সম্মত !) #days=(20)

আসসালামু আলাইকুম, আশা করি আপনি ভালো আছেন। আমার সম্পর্কে আরো জানুনLearn More
Accept !