সে বলেছিল, আমি ব্যস্ত মানুষ

0

 

• আব্দুর রহমান আল হাসান

তার সাথে অন্যতম মেসেজিং সাইট টেলিগ্রামে কথা বলছিলাম। সরাসরি ফোন কলে নয়। টেক্স মেসেজিং। কথায় কথায় বললাম, সময় করে ফোন দিও। এখন একটু বলি তার সাথে আমার পরিচয় কবে থেকে। দিনটি ২০১৩/২০১৪ সালের কোনো একদিন। মালিবাগ রেললাইনের পাশে আমাদের নিজস্ব বিল্ডিংয়ে আসে একটি নতুন মাদ্রাসা। মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠা আমার লাকি বছর ২০০৭ সনে। এই সাত সন নিয়ে আমার বেশ কিছু স্মৃতি আছে। তা আমি কিছুদিন আগে উল্লেখ করেছিলাম। মাদরাসাটির নাম, মাদরাসাতুল হেরা আল ইসলামিয়া। ২০১৩ সনে আমি মগবাজার মাদরাসাতুল ইহসানে পড়তাম। তখন আমি হেফজ বিভাগে অধ্যয়নরত ছিলাম। যেতুটুকু মনে পড়ে তখন আমার ১৭ পারার মত মুখস্ত হয়েছিল। আমি ছোটবেলা থেকেই কম মেধার অধিকারী। এ জন্য আমার হাফেজ হতে প্রায় ৫ বছর লেগেছে। আমি তখন মাঝেমধ্যে হেরা মাদরাসায় যেতাম। তখন চেহারায় যাদের সাথে আমি পরিচিত ছিলাম তারা হলো, হাসান বাগানবাড়ি, তাহসীনসহ আরো অনেককে। এত বছর পর তাদের নামও ভুলে গিয়েছি। এভাবে সময় গড়াতে গড়াতে এক সময় আসলো ২০১৫ সন। এ বছর ১৬/০৪/২০১৫ তারিখে আমি হাফেজ হই। সে গল্প অন্য কোনোদিন শোনাবো। পনেরো সালের রমজানের পর আমি ভর্তি হলাম মাদরাসাতুল হেরায়। সে বছর আমি বেফাক পরিক্ষার্থী ছিলাম। আমার তখন নতুন সেখানে। একজনের পাশে ক্লাসে বসলাম। তার আচার ব্যবহার আমার নিকট খুব ভালো লেগেছে। সেই ছোট বয়সে যা হয়। ক্লাসের একেকজন একেকজনকে অনেক উপাধী দিয়ে রাখে। আমার বেশ কিছু মজার উপাধী আছে। মাদরাসাতুল ইহসানে আমার উপাধী ছিল, পীর সাহেব। হেরাতে ছিল, বাড়িওয়ালা। কিতাব বিভাগের শুরুতে মারকাযে আমার উপাধী আফফান সিয়াম দিয়েছিল, রোহিঙ্গা। কেন সে এই নাম দিয়েছিল, জানা নেই। হয়তো আমি স্বাস্থ্যগত দিক থেকে চিকন ছিলাম দেখে। যাই হোক, হেরায় তার নাম ছিল ”ধলাকদু”। এই নামের মানে কি, আমার জানা নেই। অনেক আজগুবি কথা বললাম। মূল কথায় ফিরি।

আমি তার পাশে ক্লাসে বসেছিলাম। আমি হঠাৎ আনমনে তৎকালীন সময় জনপ্রিয় একটা ইসলামী সঙ্গীত ‘কে গড়েছেন আকাশ যমীন অবাক প্রকৃতি’ আস্তে আস্তে গাইতে ছিলাম। সে এটা শুনলো। সে তখন বললো, তুমি গজল পারো। আমি বললাম, কিছুটা। সে তখন আমাকে এই গজল বিষয়ে অনেক কথাই বললো। এভাবে প্রায় ৫ মাস চলে গেল। এই পাঁচমাসে আমাদের মধ্যে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরী হলো। আামার জীবনে আমি খুব কম ব্যাক্তিকেই বন্ধু হিসেবে গ্রহন করেছি। যাদের গ্রহন করেছি, তারা আমাকে মনে রাখুক বা না রাখুক। আমি মৃত্যু  পর্যন্ত তাদের মনে রাখবো। এটা আমার নিজস্ব নীতি। তারপর হেফজখানায় আমাদের জীবনে নতুন এক শিক্ষক আসলো কামরুল ইসলাম নকীব হুজুর। যার অনুপ্রেরণায় আমি আজ লেখালেখির ময়দানে কিঞ্চিৎ বিচরণ করি। আমি তাহসীনকে মোটামুটি বন্ধু হিসেবেই গ্রহন করেছিলাম। সে ইদানিংকাল পর্যন্ত এটা জানতো না। হেফজখানায় যাদের আমি বন্ধু হিসেবে গ্রহন করেছিলাম তারা হলো, সাদ-যোবায়ের, আব্দুল্লাহ, তাওহীদুল ইসলাম তাহসীন। তাদের আমি আজীবন মনে রাখবো। আজকে আমি লিখবো তাহসীনকে নিয়ে। অনেক কিছুই ভুলে গিয়েছি। আবার অনেক কিছু আরো ১০ বছর পর বলবো হয়তো। যদি বেঁচে থাকি। কারণ জীবনের কোনো নিশ্চয়তা নেই। আমি যখন এই লেখাটি লিখছি সেই দিন ইন্তিকাল করলেন, ইসলামিক সাংস্কৃতিক ময়দানের অন্যতম ব্যাক্তি মাহফুজুল আলম রহঃ। যদি বেঁচে থাকি, তাহলে বলবো। অন্যথায় তা তাহসীনই হয়তো বলবে। আমি আর তাহসীন প্রায়ই কোরাস সঙ্গীত গাইতাম। যদিও সে সময় তাকে আমি বেশ কিছু মিথ্যা কথা বলেছিলাম যে, আমি কলরবে ট্রেনিং নিয়েছি। আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন।

আমাদের বেফাক পরীক্ষার আগে  পূর্ণ এক খতম কোরআন শরীফ শুনানো লেগেছিল। আমি আর তাহসীন পরষ্পরকে এক খতম কোরআন শরীফ শুয়েছিলাম। মনে হয় দুইবার শুনিয়ে ছিলাম। আরো স্মৃতি আছে। তা পরে কখনো বলবো।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(আমি সম্মত !) #days=(20)

আসসালামু আলাইকুম, আশা করি আপনি ভালো আছেন। আমার সম্পর্কে আরো জানুনLearn More
Accept !