কেন এত গুম হয় বাংলাদেশে

0
কেন এত গুম হয় বাংলাদেশে
আব্দুর রহমান আল হাসান

গুম হওয়া বাংলাদেশে এখন একটি স্বাভাবিক ব্যাপারযে কেউ যে কোনো মুহুর্তে গুম হয়ে যেতে পারেনাগরিক ইস্যু যেমন সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ঠিক তেমনি গুম করাটাও সরকারের কাছে এখন গুরুত্বপূর্ণবাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস খুবই পিচ্ছিলএখানে কখনো কেউ ভালো থাকতে পারে না বা দেশকে ভালো রাখতে পারে না১৯৭৫ সনের ১৫ই আগষ্ট যখন গুটিকয়েক সেনা অফিসার বিদ্রোহ করে বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের এক মহাব্যক্তিত্ব শেখ মজিবুর রহমানকে হত্যা করে,তখন খোদ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একটু রা শব্দও করে নিকারণ গুম হওয়ার ভয়ে বাংলাদেশ জন্মের প্রাচীনকাল থেকেই দেশে মানুষ গুম হয় যেমনভাবে একজন সাধারণ জনগণ গুম হতে পারে,তেমনি একজন মুক্তিযোদ্ধাও গুম হতে পারে

এখন কথা হলো,এই গুম কেন করা হয়? হিসাবটা খুবই সোজাবাংলাদেশে যত রাজনৈতিক দল আছে,তারা সর্বদাই ক্ষমতায় এসে বিরোধী দলের উপর আগে প্রতিশোধ নেয়তারপর মন চাইলে দেশের কিছুটা উন্নতি করেআর সর্বদাই সরকারদলীয় ব্যক্তিরা বিরোধী দলকে এমনভাবে উপস্থাপন করে,যেন তারা চোর-বাটপার ছিলআর এই বিরোধী দলে যদি কোনো নেতাকর্মী থাকে,যে উক্ত সরকারদলীয় দলের জন্য হুমকিস্বরুপতাহলে তৎক্ষণাত তাকে তারা গুম করে ফেলবেগুম করার পর কি করবে তার উক্ত সরকারই ভালো জানেনবেশি জনমত নড়েচড়ে উঠলে একসময় তাকে হুমকি দিয়ে একসময় তাকে ছেড়ে দিবেঅন্যথায় তাকে তারা গুম অবস্থায়ই মেরে ফেলবেএটাই বাংলাদেশের চিরায়িত নিয়মআর যদি উক্ত গুম হওয়া ব্যক্তি কোনো ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হয় তাহলেতার গুম হওয়ার কারণ ভিন্নপ্রথমে হলো সে যদি কখনো অনেক জনমত নিয়ে কোনো দল প্রতিষ্ঠা করে রাজনীতি করে তাহলে তা সরকারের জন্য অনেক বড় হুমকিকারণ বাংলার মানুষ একটু বেশি আবেগীতারা সর্বদা চায়,নেতার আসনে তার ধর্মীয় পীর থাকুকসে যেই হোকআমি একটু পিছনে যাচ্ছি২০১৮এবং২০১৯সনের দিকে যখন অন্যতম ইসলামিক স্কলার মাওঃ মিজানুর রহমান আজহারী অনেক জনপ্রিয় ইসলামিক বক্তা হলেন তখন সরকার তাকে ষড়যন্ত্র করে দেশত্যাগে বাধ্য করলো আর তার পিছনে লেলিয়ে দিল কওমি আলেমদেরএখন অনেকেই বলবে,আমি আজহারী সাহেবের পক্ষে কথা বলে পথভ্রষ্ট হয়ে গেছিআপনাদের পথভ্রষ্টতার সংজ্ঞা কি আমার জানা নেইতবে আপনাদের এই অজ্ঞ মার্কা পথভ্রষ্টতায় আমি আজীবন বেঁচে থাকতে চাইএকটা কথা বলিকখনো কোনো আলেমের নামে জনসম্মুখে বিষোদগার মন্তব্য করবেন নাযদি পারেন তাহলে তাকে গিয়ে তার ভ্রষ্টতার কথা উল্লেখ করুনঅন্যথায় মুখে কুলুপ এঁটে রাখুন

আবার মূল কথায় আসিযদি কোনো ইসলামিক ব্যাক্তি এতটা জনপ্রিয় নয়,তবে তার কথা গনতন্ত্র এবং জায়োনিজমের সাথে সংঘর্ষপূর্ণ তাহলে তাকে গুম করে ফেলবেএখন অনেকেই বলবে, বাংলাদেশে জায়োনিজম আসলো কোথা থেকে? একটা কথা মনে রাখবেনইসরাইল ইহুদীরা শুধু ফিলিস্তিনই দখল করে নিতারা এই বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রের প্রতিটি মাথাকে দখল করে রেখেছেআপনি তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলবেন অমনি আপনার বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু হয়ে যাবেতাই বলে কি আপনি তাদের শয়তানী মতবাদ থেকে জনগণকে বাধা দিবেন না? অবশ্যই দিবেনএটা আপনার ঈমানী দায়িত্বতবে যতুটুকু সেফটিতে থাকা যায়আর নিজ পরিবারকে সর্বদা এই কথা শিক্ষা দিবেন,দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী আর আখেরাত চিরস্থায়ীতাহলে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আপনি কখনো গুম হলে তারা এতটা আবেগী হবে নাআপনার জন্য তারা জায়নামাজে বসে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবেআর ক্ষণস্থায়ী এই দুনিয়ায় এটাই যথেষ্ঠএর পাশাপাশি তারা তার খোঁজ তৎপরতাও চালাবেকারণ একটা কথা মাথায় রাখবেনসরকার যাকে টার্গেট করে,তাকে সে যেভাবেই হোক ফাঁসিয়ে দিবেএটাই তাদের চিয়ায়িত নিয়ম


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(আমি সম্মত !) #days=(20)

আসসালামু আলাইকুম, আশা করি আপনি ভালো আছেন। আমার সম্পর্কে আরো জানুনLearn More
Accept !