আজও মনে পড়ে সেই দিনগুলো

0

 আজও মনে পড়ে সেই দিনগুলো
আব্দুর রহমান আল হাসান

জন্মের পর থেকে পর্যন্ত কখনো যদি কোনো স্বরণীয় দিন মনে করার চেষ্টা করি, সর্বপ্রথম মনে পড়ে ২০০৭ সনের কথা কি ছিল ২০০৭ সনে? কেন এই বছরটি আমার এত স্বরণীয়, তা আমি নিজেও জানি না কিন্তু তারপরও এই বছরটি আমার স্বরণীয় ২০০৭ সনে আমি স্কুলে কে.জি.তে পড়তাম পড়ালেখায় ছোটবেলায় খুব আগ্রহী ছিলাম আর এই বছর আমার সেজোভাই হাবিবুল্লাহ বাহারের জন্ম হয় ২০০৭ সালের দিনগুলো যেতুটুকু মনে পড়ে, তখন রাস্তায় এতো বেশি গাড়ি ছিল না আমাদের বাসার গলিতে তেমন জ্যাম লাগতে দেখি নি অথচ সেই রাস্তায় এখন প্রায়ই জ্যাম লেগে থাকে আমরা তখন যেই বাসায়  থাকতাম, সে সময় সেটি টিনের ঘর ছিল বর্তমানে তা মস্তবড় একটি কমপ্লেক্স হয়ে গেছে তখন বাসার সামনে প্রচুর খালি জায়গা ছিল সেখানে ইটের টুকরো, বালু নিয়ে দুষ্টমি করতামআমার তখন একজন খেলার সাথি ছিল তারা আমাদের পাশের বাসায় থাকতো তার নাম মৌঁ  সে ছাড়াও আরো অনেকে ছিলমৌদের সাথে ২০১০ সনের পর থেকে আমার আর কোনো সাক্ষাৎ হয় নি আব্বুর সাথে মৌ এর বাবার পরিচয় ছিল /৬ বছর আগে শুনেছিলাম মৌ এর বাবা ইন্তিকাল করেন এবং তার বাবা মারা যাওয়ার মাসখানেক পর তার মা এই পৃথিবী ছেড়ে চির বিদায় গ্রহন করে জানি না, সে এখন কেমন আছে যতুটুকু জানতাম, মৌ রা দুইবোন ছিল সে যেখানেই থাকুক, আল্লাহ যেন তাকে উত্তম ধের্যধারণ এবং জীবনে সফলতা দান করেন মৌ এর সাথে আমার আরো অনেক হিস্টোরি রয়েছে আমরা একসাথে একবার কম্বাইন্ড টিউটোরিয়াল স্কুলে পড়েছি তার সাথে একসাথে কায়দা পড়া শিখেছি আমরা একসাথে খেলাধূলা করতাম একসাথে সে সময়  চলাফেরা করতাম

তারপরের ফ্রেন্ডলিস্টে ছিল আমার আরেক প্রতিবেশি অরিন এবং অহনা তারা দুইবোন ছিল ২০০৭ সনে টিভি এখনকার মত এত বেশি ছিল না আমি আবার রক্ষণশীল পরিবারের ছেলে হওয়ায় আমাদের বাসায়  টিভি ছিল না কিন্তু সে সময় আমার কার্টুন দেখার অভ্যাস ছিল তৎকালীন সময় কার্টূন মানেই ছিল টম এন্ড জেরী এবং ঠাকুমার ঝুলি ডোরেমন তখন নতুন চাইনিজ থেকে আমদানি হতো তবে সেটার সাথে এত পরিচিত ছিলাম না অরিনদের বাসায় তখন টিভি ছিল তখন লুকিয়ে লুকিয়ে তাদের বাসায় কার্টূন দেখতে যেতাম তারা আমার খেলার সঙ্গীও ছিল তারা পড়তো অঙ্কুর টিউটোরিয়াল স্কুলে তাদের সাথেও ২০১০ সনের পর আর তেমন একটা দেখা হয় নি ২০১৭ সনে একবার গ্রীন হোমিও হলে এক পলকের জন্য দেখা হয়েছিল এরপর আর কখনো দেখা হয় নি

আমাদের আরেক প্রতিবেশি ছিল আফিফ এবং আরমা রা আফিফদের বাসায় টিভিও ছিল সেখানে দেখতাম চাইনিজ কার্টূন ডোরেমন তার সাথে তেমন খেলাধূলা কখনো করি নি তাদের বাসায় যাওয়া নিয়ে সে সময়ের একটা মারাত্বক ঘটনা ঘটে গিয়েছিল সেটা আজ পর্যন্ত কাউকে বলি নি একদিন আমি আফিফদের বাসায় টিভি দেখতে গিয়েছিলাম কোনো এক কারণে আব্বু তখন আমাকে খুজঁতেছিল অনেকক্ষণ খোঁজাখুজির পর আফিফদের বাসায় আসলো সেখানে আমাকে পেল তখন আব্বু আমাকে বাসায় নিয়ে আসছিলেন এতক্ষণ খোঁজাখুজি করে আমাকে না পেয়ে আব্বু খানিকটা রেগে যান তাই আমাকে আস্তে ডাক্কা মারেনকিন্তু আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে পড়ে যাই আর জায়গাটা ঢালু স্থান ছিল তাই পড়ে দূরে গিয়ে পড়ি এতে হাতে আমি প্রচুর ব্যাথা পাইসন্ধার পর দি বারাকা হাসপাতালে গেলে তারা এক্স-রে করতে বলেএক্স-রে করার পর ডাক্তার বলে আমার বাম হাতের একটা হাড়ের জোঁড়া ছুটে গিয়েছে তখন ডাক্তার আমার হাতে বড় ব্যান্ডেজ বেঁধে গলায় ঝুলিয়ে দিলো এভাবে প্রায় তিন চারমাস হাত গলায় ঝুলিয়ে রেখেছিলাম আবার আগের কথায় ফিরি আফিফরা বর্তমানে আমাদের বাসার পাঁচ বিল্ডিং পর ইস্টার্ন প্যালেসে থাকে যুগের পরিবর্তনে সে আজ বড় হয়ে গিয়েছে আমিও বড় হয়ে গিয়েছি আমাদের প্রায়ই চলার পথে দেখা হয় কিন্তু কথা বলা হয়ে উঠে না জীবনে তার পথ এবং উদ্দেশ্য একটা আর আমার পথ এবং উদ্দেশ্য আরেকটা সে যেন পৃথিবীর সফল মানুষে পরিণত হয়, সেই প্রার্থনা করি

(লেখাটি লিখেছিলাম ০৯/০৯/২০২০ ঈসায়ী তারিখে)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(আমি সম্মত !) #days=(20)

আসসালামু আলাইকুম, আশা করি আপনি ভালো আছেন। আমার সম্পর্কে আরো জানুনLearn More
Accept !