নবীন দীপ্ত এবং আমি

0
নবীন দীপ্ত এবং আমি
• আব্দুর রহমান আল হাসান

দিনটি ছিল ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসের কোনো একদিন। এত বছর পর এখন সঠিক  তারিখটা আর মনে নেই। আমি কেন যেন অনুভব করছিলাম, একটা পত্রিকা প্রকাশ করা উচিৎ। কারণটা তখন সাহিত্য চর্চা ছাড়া আর কোনো ইচ্ছা ছিল না। আমি আমার তৎকালীন মারকাযুল কোরআনের সহপাঠি ইয়াছিন নিজামী ভাইকে আমার ইচ্ছার কথা সর্বপ্রথম জানাই। তিনি বাহবা দেন। আমার এই উদ্যোগে তিনি সাথে থাকবেন বলে ইচ্ছাও প্রকাশ করেন। যেন অকূল সমুদ্রে একটু খঁড়কুটো খুজে পেলাম। তারপর পাশাপাশি আরো কিছু সাথিভাইদের জানাই। তাদের কেউ আমাকে উৎসাহ দেয় আর কেউ নিরুৎসাহিত করে। এভাবে পাঁচদিন গত হলো। ভাবলাম বসে থেকে লাভ নেই। কাজ শুরু করে দেই। বিসমিল্লাহ বলে  কাজ শুরু হলো। যেহেতু সে সময় পত্রিকা কোথা থেকে, কিভাবে ছাপাবো সেটা নিয়ে খুব চিন্তিত ছিলাম। নিজামী ভাই বললেন, যেহেতু আমাদের কম্পিউটারের মাধ্যমে সুন্দরভাবে টাইপ করে হার্ডকপি বের করা সম্ভব নয়। তাই আমরা হাতের লেখা কপি বের করতে পারি। কারণ তখন এটা শুধু আমাদের ক্লাস ভিত্তিক পত্রিকা ছিল। ভাবলাম উদ্যোগটা খুব সুন্দর। আমি সহমত প্রকাশ করলাম। ভাই বললেন, পত্রিকার একটা নাম দাও। আমি মিনিট পাঁচেক ভেবে অনেক নামই বের করলাম। অবশেষে নবীন দীপ্ত নামটি আমরা পছন্দ করলাম। কারণ, এই নামটিকে সংক্ষেপ করলে হয় নদী। এর মানে আমরা নদীর মত অবিরত চলতে থাকবো। কখনো পিছু হটবো না ইনশাল্লাহ। যাই হোক, এখন আসে পত্রিকার সম্পাদক এবং আরো কিছু লোকজন নির্বাচন করা। যেহেতু পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা আমি ছিলাম, তাই এটার সবকিছু করার দায়িত্ব স্বভাবগতভাবেই আমার কাধে এসে বর্তায়। আমি কালক্ষেপণ না করে নিজামী ভাইকে সম্পাদকের মহা দায়িত্ব দিলাম। আমার এক ক্লাসমেন্ট মোহাম্মাদ যুবায়ের আহমাদ। তার বাসা কামরাঙ্গিরচর। তাকে দিলাম নির্বাহী সম্পাদক। আর আমি আপাতত সহকারী সম্পাদকের পদ দখল করলাম। এবার কাজের পালা। ক্লাসের সবার মাঝে একটা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হলো। তবে এতে তেমন কোনো সাড়াশব্দ আমরা পাচ্ছিলাম না। আমি তাই অনেককে জোর করে বলে লেখা দিতে বলেছি। এভাবে অনেক কষ্ট মোজাহাদার পর ২০১৮ সালের নভেম্বরে নবীন দীপ্ত ‘নদী’ এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশ পায়। খুব সুন্দর হয়েছিল সংখ্যাটি।যদিও তার লেখাগুলো হাতে লেখা হয়েছিল। আমরা শুধু সেটা ফটোকপি করে পত্রিকা বানিয়েছিলাম। এবার আসে বিক্রির পালা। আমরা মনে হয়, ২০টার অধিক সংখ্যা ছাপিয়ে ছিলাম। এর মধ্যে বিক্রি হয়েছিল মাত্র ৬/৭ টা। যাই হোক, আমরা আরো বেশ কিছু ঝামেলার কারণে কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হলাম। কারণ টাকা আমরা সম্পাদকমন্ডলীরা খরচ করতে রাজি আছি। কিন্তু কোনো লেখা কেউ দিচ্ছিলো না। তাই সর্বসম্মতিতে আমরা সেটা বন্ধ করতে বাধ্য হলাম। কাজ এখানেই আবার সমাপ্ত। তবে এভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমার অনেক খারাপ লেগেছিল। তারপরও কিছু করার ছিল না। এরপর দিন যায়, রাত আসে। আমাদের পড়ালেখার এক একটা ধাপ আমরা অতিক্রম করে আমরা চলে আসলাম ২০২১ সালে। বিষয়টা শুরু হয় আমার পার্সোনাল একটা ঘটনা থেকে। এবার রোজার ঈদের পূর্বে আমি একটা ল্যাপটপ কিনি। যেহেতু ল্যাপটপ কেনার আগেই আমি বাংলা এবং ইংরেজি টাইপ শিখেছিলাম, তাই আমি সেগুলো প্রায়ই প্যাকটিস করার জন্য ল্যাপটপে গল্প লিখতাম। আর এই গল্পগুলো সাধারণত আমার ওয়েবসাইটে আমি আপলোড করতাম। আমার এই লেখালেখির মধ্যে আসার অনুপ্রেরণা দিয়েছে, আমার বেশ কিছু কাছের মানুষজন। পূর্বের কথায় ফিরে যাই। প্যাকটিস করার জন্য তেমন কিছু পাচ্ছিলাম না। কারণ নিজের গল্প বা অন্য কোনো বই থেকে লিখতে প্রচুর আলসেমি লাগতো। এ জন্য দু’লাইনের বেশি আর লিখতে পারতাম না। এমন পরিস্থিতিতে আমার খুবই ঘনিষ্ঠ একজন বড়ভাই, (যদিও সে স্বীকার করে না, সে আমার বড়। বলে আমরা নাকি এক সমান। অথচ সে আমার জন্মের চার মাস আগে এই পৃথিবীতে এসেছে।) সালমান ইউসুফ বললো, তুমি কাফেলার পিডিএফ বানাইতে পারো। কাফেলা কি, সেটার একটু সংক্ষিপ্ত পরিচয় দেই আপনাদের। ২০১৮ সনে আমরা যখন  মারকাযুল কোরআন আশরাফাবাদে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ি, তখন আমাদের ক্লাস থেকে আমরা একটা বার্ষিক পত্রিকা বের করেছিলাম। যেটার নাম ছিল কাফেলা। তা একটা সংখ্যাই বের হয়েছে। আর কোনো সংখ্যা বের হওয়ার সম্ভাবনা নেই। যেহেতু কাফেলা অনেক আগে প্রকাশিত হয়েছে, তা ছাড়া তাতে আমরা যারা লিখেছিলাম তাদের অনেকেই ভুলেই গিয়েছে যে, তারা কি লিখেছিল। আমি আবার ওয়েবসাইট বানাতে পারি। তাই কাফেলার নামে একটা ওয়েবসাইট বানিয়ে তাতে কাফেলার সকল লেখাগুলো আপলোড করেছি। এটাতে তৎকালীন কাফেলার লেখকদের মধ্যে বেশ সাড়া পড়েছিল। তো আমি টাইপ শেখার জন্য কাফেলার কাজ হাতে নিলাম। প্রায় সবগুলো লেখা লিখতে ৮/৯ দিন লাগলো। এতে আমার টাইপের হাত খুব চালু হয়ে গেল। এই হলো কাফেলার ঘটনা। আবার নবীন দীপ্ত এর গল্প শুরু করি। আমি যখন কাফেলার লেখাগুলো ওয়েবসাইটে দিয়েছিলাম, তখন হঠাৎ আমার মাথায় আসলো আবার একটা পত্রিকার কাজ হাতে নেই। এটাতে সকলেই এবং সব বয়সের ব্যক্তিরাই লিখতে পারবে। একদিন রাতে ইয়াছিন নিজামী ভাইকে ফোন দিয়ে আমার ইচ্ছার কথা জানালাম। তিনি সাথে সাথে সায় দিলেন। যেহেতু এবার আমাদের কোনো আল্লাহর রহমতে অপূর্ণাঙ্গতা নেই। আমার ল্যপটপ আছে। তাই টাইপ আমিই করতে পারবো। তবে যেহেতু এটা এখন একটি জাতীয় পত্রিকা হিসেবে রুপ নিয়েছে, তাই এর জন্য আবার নতুন সংশ্লিষ্ট লোক প্রয়োজন। যারা কখনো হার মানতে শিখে নি। এবার আমি সম্পাদকের দায়িত্ব দিলাম ইয়াছিন নিজামী ভাইয়ের উপর। সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব দিলাম আমার মেঝোভাই মোহাম্মাদ হোসাইনকে। সহযোগী সম্পাদকের দায়িত্ব দিলাম একজন ত্যাগী ব্যাক্তিকে। যার নাম হলো সালমান ইউসুফ। সর্বশেষে নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব আমিই নিলাম। এই চারজন মিলে শুরু হলো একটি পত্রিকা বানানোর কাজ। আমি বললাম, যেহেতু আমরা আগে নবীন দীপ্ত নামে একটা পত্রিকা বানিয়েছিলাম। তাই সেই নামেই শুরু হোক। সবাই সায় দিলো। আলহামদুলিল্লাহ, লেখার আহ্বান দেয়ার পর খুব তাড়াতাড়িই আমাদের নিকট লেখা আসতে লাগলো। দ্বিতীয় সংখ্যায় পরিচিত-অপরিচিত, অনেকেই লেখা পাঠালো। এমনও ব্যক্তিরা লেখা পাঠিয়েছে, যাদের আমি কখনো চিনি না। তাদের  দেখিও নি। এ সবই আল্লাহর ইশারা। অবশেষে আমরা দ্বিতীয় সংখ্যা আগষ্ট ২০২১ তারিখের জন্য ছাপালাম।

পরিশেষে আমি এই তিনজন সম্পাদকের কৃতজ্ঞতা আদায় না করলেই নয়। নিজামী অনেক কষ্ট করে সম্পাদনা করে দিয়েছেন। দেখা গেছে, আমার গাফলতির কারণে তিনি নতুন একটা সম্পদনা করে দিয়েছেন, কিন্তু আমি সেটা উঠাই নি। এটা একান্তই আমার গাফলতি ছিল। সামনে থেকে এসবে আমার নজর থাকবে ইনশাল্লাহ। আর আমার মেঝোভাই হোসাইন যঠেষ্ট উৎসাহ এবং প্রয়োজনে টাইপসহ আরো বেশ কিছু কাজ করে দিয়েছে। সে জন্য তার কাছেও আমি কৃতজ্ঞ। যদি সে দেখে, তার উপর আমি একটু বেশিই রাগ করি। তারপরও সে আমার অনেক কাছের। এটাই সত্য। আর সালমান ইউসুফ অনেক কষ্ট করেছে আমাদের জন্য। এই গরমে সে প্রেসে দৌড়াদৌড়ি করেছে। ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে বাসায় ফিরেছে। সকালে কাঁচা ঘুম থেকে উঠেই নাস্তা না করেই প্রেসে দৌড়। তার নিকট আমি আজীবন চিরকৃতজ্ঞ থাকবো। মোট কথা, সংশ্লিষ্ট তিনজনের নিকটই আমি চির কৃতজ্ঞ।

পরিশেষে আল্লাহর নিকট এই দোয়া করি, তিনি যেন আমাদের এই কাজ অব্যাহত রাখেন। নাস্তিক-মুরতাদদের সাথে আমরা যেই কলমের লড়াই করছি, সেখানে যেন আমরা জয়ী হতে পারি, সেই তাওফিক যেন তিনি দান করেন। আমিন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(আমি সম্মত !) #days=(20)

আসসালামু আলাইকুম, আশা করি আপনি ভালো আছেন। আমার সম্পর্কে আরো জানুনLearn More
Accept !