ট্রিয়ানদের পৃথিবী দখল

0
ট্রিয়ানদের পৃথিবী দখল
* আব্দুর রহমান আল হাসান
পৃথিবীবাসী আজ আনন্দ উদযাপন করছে । তারা নতুন বছরকে স্বাগত জানাচ্ছে । এই মুহুর্তে পৃথিবীর ঘড়ি অনুযায়ী রাত ১১:৪৫ মিনিট । অনেকেই বিভিন্ন রকমের বাজি ফুটাচ্ছে । পাশাপাশি ফানুস , তারাবাতি তো আছেই । পৃথিবীতে এখন মারাত্মক শব্দদূষণ হচ্ছে । পাশাপাশি প্রচুর কার্বন-ডাই-অক্সাইডের বিশাক্ত গ্যাস উৎপন্ন হচ্ছে । মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির বিখ্যাত আয়ূনিধেরক যন্ত্রের মাধ্যমে পৃথিবীর বয়স কতুটুকু কমছে , তা পরিমাপ করা হচ্ছে । পৃথিবীতে এখন প্রতি মিলি সেকেন্ডে ১০ টন করে কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপন্ন হচ্ছে । এটা যে কত ভয়ংকর ব্যাপার , পৃথিবীবাসীর এ সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা নেই । পৃথিবীবাসীরা যে কত বোকা , তা প্রমাণিত হয়েছে কিছুদিন আগে । তারা নাকি পৃথিবীর চারপাশে কৃত্তিম উপগ্রহ নির্মাণ করে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরী করবে । পৃথিবীর ঘড়ি অনুযায়ী এখন রাত ১২;৫৮ মিনিট । এই মুহুর্তে পৃথিবীতে প্রতি মিলি সেকেন্ডে ২৫ টন করে কার্ন-ডাই-অক্সাইড এবং ০.২ গ্রাম করে টিয়াক্সিড উৎপন্ন হচ্ছে । মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির আয়ূনিধেরক যন্ত্রে দেখাচ্ছে , পৃথিবীর বয়স এখন এমন দূর্ষণের কারণে মিনিটে ৭৫৬ বছর করে কমছে । পৃথিবীবাসীরা যেই মিশন নিয়ে নেমেছে , এর মধ্যে সাকসেসফুল হওয়ার সম্ভাবনা ২৫% । এই মূহুর্তে পৃথিবীর সময় ১২:০০ মিনিট । নতুন বছর শুরু হয়েছে । মুহুর্তের মধ্যে পৃথিবীর শব্দদূষণ ৩০% বেড়ে গিয়েছে । আর কার্বন-ডাই-অক্সাইড কি পরিমাণে বাড়ছে , তা দেখে সবার চোখ কপালে উঠে যাওয়াার মত অবস্থা ! মিল্কিওয়ের আয়ূনিধেরক যন্ত্রে এখন পৃথিবীর বয়স ২০২৬ বছর করে কমছে ।এরা নাকি আবার সভ্য জাতি । কিভাবে তারা সভ্য জাতি হলো ? যারা নিজেদের গ্রহ ধ্বংস করে আনন্দ-উল্লাস করে , তারা কখনো সভ্য জাতি হতে পারে না।
২.
ক্যাপ্টেন এষ পাহাড় থেকে আকাশ দেখছেন । এই পাহাড়রা একেক সময় একেক জায়গায় অবস্থান করে । ক্যাপ্টেনের পাশে বিখ্যাত জ্যোতির্বিদ মিহ দাড়িয়ে আছে । মিহের পাশে পৃথিবীর মানুষের মত দেখতে একটি রবোট দাড়িয়ে আছে । এষ রবোটটি দেখে কিছুক্ষণ হাসলেন । মিহ অবাক হয়ে এষের হাসি দেখছে । কারণ , এষের বর্তমান হাসির ভঙ্গিটা মিহের কাছে পরিচিত নয় । রবোটটি তখন বলে উঠলো , ক্যাপ্টেন , আপনার হাসির কারণটা আমি বুঝতে পেরেছি । এষ হো হো করে হেসে বললো , তুমি তো তা পারবেই ।
অথচ দেখো , তোমাকে আমরা আমাদের সাধারণ টেকনোলজি দিয়ে বানিয়েছি । তারপরও তুমি পৃথিবীর মানুষ থেকে বুদ্ধিমান । পৃথিবীবাসীরা গত ২০০ বছরে যত রবোট বানিয়েছে , সবগুলোতে কোনো না কোনো ত্রুটি ছিল । আর যত নতুন জিনিষ আবিষ্কার করে , তার মধ্যে বিধ্বংসী জিনিষ আবিষ্কার করে ৬৫% । মিহ জিজ্ঞাসা করলো , ক্যাপ্টেন ট্রিয়ান গ্যালাক্সিতে গত মাসে আমরা যে নভোযানটি পাঠিয়েছিলাম , তার আপডেট খবর কি ?
: ট্রিয়ানরা আমাদের প্রস্তাবে রাজি হচ্ছে না । তারা চাচ্ছে , পৃথিবীর সাথে যোগাযোগ করতে ।
: এতে তো পৃথিবীর মানুষ আরো হিংস্র হয়ে উঠবে ।
: কিন্তু তারা তো চাচ্ছে , পৃথিবীর সাথে যোগাযোগ করতে ।
: আমাদের ট্রিয়ানদের থামাতে হবে ।
: ট্রিয়ানদের চারপাশে সার্কেল তৈরী করো । তা হলে হয়তো তাদের থামানো যাবে । গ্রীসকে খবর দাও । তার সাথে জরুরি কথা আছে ।
ট্রিয়ান গ্যালাক্সি । এখানে ৪০০ কৌটি গ্রহ আছে ।প্রাণের বসবাস ১০০ কৌটি গ্যালাক্সিতে । এখানকার বুদ্ধিমান প্রাণীদের কাছে পৃথিবী খুবই আগ্রহের বিষয় । কিন্তু তারা পৃথিবীর সাথে কোনোরুপ কন্ট্রাক্ট করতে পারে নি । কারণ , পৃথিবী মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির অধীনে । আর মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির প্রধানরা কেন যেন পৃথিবীতে কোনো রুপ সিগন্যাল পাঠাতে চান না । এ জন্য পৃথিবীবাসী আজও ”পৃথিবীর বাহিরে প্রাণ আছে নাকি “ এটার কোনো সমাধান বের করতে পারে নি । ট্রিয়ান গ্যালাক্সির প্রধান দৃশ একটি কনফারেন্সের আয়োজন করেছেন । তাতে সকল ট্রিয়ান গ্রহগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে । হয়তো সকলে এসে পৌছাতে ২০ দিন সময় লাগবে ।
আমেরিকা , নিউইয়র্ক ।ড. স্টিন ল্যাবে বসে আছেন । আজও ১৯৬৯ সনের ওয়াও সমাধান অমিমাংসিত রয়ে গিয়েছে । ওয়াও সিগন্যানের ব্যাপারে অনেক বিজ্ঞানী বলেছিলেন , এটা এলিয়েনদের নিকট হতে প্রেরিত সংবাদ । তবে কোনো কোনো বিজ্ঞানী এটা অস্বীকারও করেছেন । ড.স্টিন মহাকাশ স্টেশনের সাথে যোগাযোগ করলেন । ধারণা করা হচ্ছে ,পৃথিবীর আয়ূ দিন দিন শেষ হয়ে যাচ্ছে । কিন্তু হিসাবমতে , পৃথিবী আরো ট্রিলিয়ন বছর টিকে থাকবে । মহাকাশ স্টেশন থেকে ড. লুইস কন্ট্রাক্ট রিসিপ করলেন । ড. স্টিন তাকে বললেন , পৃথিবীতে মাঝেমধ্যে ছোটখাটো সমস্যা হচ্ছে । মহাকাশ স্টেশন থেকে এর সমাধান প্রয়োজন । ড. লুইস জিজ্ঞাসা করলেন , কেমন সমস্যা ?
: স্যাটেলাইটগুলো মাঝেমধ্যে ভুল তথ্য দিচ্ছে ।
: এতে হয়তো আমাদের প্রতিদ্বন্দী কোনো দেশের হাত আছে ।
: স্যার , জনগণ তো আর প্রতিদ্বন্দী দেখবে না । তারা বিজ্ঞানের উন্নতি চায় ।
: আচ্ছা , আমি এ বিষয়ে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিবো।
বেইজিং , চীন ।
ভিনগ্রহী প্রাণীদের সাথে যোগাযোগ করা । বেইজিং এ গত কয়েকদিন আগে একটি কনফারেন্স হয়েছিল । সেখানে বিশ্বের বড় বড় মহাকাশ বিজ্ঞানীরা উপস্থিত ছিলেন । সেখানে কয়েকজন বিজ্ঞানী একটি থিউরিক্যাল মত পেশ করেছিলেন । মহাকাশে বিভিন্নরকম প্রাণী আছে হয়তো । কেউ বুদ্ধিমান হবে আর কেউ নিম্ন বুদ্ধির অধিকারী হবে । মানব সমাজ মহাকাশের কোন শ্রেণীর প্রাণীর অন্তর্ভুক্ত তা বের করতে পারলে অন্যান্যদের সাথে যোগাযোগ সহজ হবে ।
তাদের এ মতের উপর অনেকেই একমত হয়েছেন । চীন সরকার মহাকাশে তাদের লড়াইয়ের জন্য অনেক বড় বড় বাজেট হাতে নিচ্ছে । চীনা বিজ্ঞানীদের প্রসিদ্ধ ওয়াও সিগন্যালের ব্যাপারে কোনো ইন্টারেস্ট নেই ।কারণ তারা মনে করে , ওয়াও সিগন্যালের ব্যাপারটা সম্পূন্ন বানোয়াট । এ বিষয়ে আমেরিকান কিছু প্রসিদ্ধ বিজ্ঞানীদের ও মত রয়েছে । 
৩.
ক্যাপ্টেন এষ তার অফিসে বসে আছেন ।প্রত্যেকটি গ্রহের আপডেট খবর দেখছেন তিনি । পৃথিবীর চারপাশে আরো তিনটি কৃত্তিম গ্রহ পাঠিয়েছে আমেরিকানরা ।” এটা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ”মনে মনে বললেন ক্যাপ্টেন । উষান গ্রহে ক্যাপ্টেন মিহকে থাকতে বললেন । সেখানে তারা পদার্থ সম্পর্কে একটি প্রকল্প তৈরী করবেন । হঠাৎ বেলের আওয়াজে ক্যাপ্টেন এষের ভাবনায় ছেদ পড়লো । গ্রীস দাড়িঁয়ে আছে । এষ তাকে ভিতরে আসতে বললেন । তারপর এষ রুমের এক কোণে ওয়াল কম্পিউটারে ক্লিক করার পর একটি ট্যানেলের মত রাস্তা বেরিয়ে এলো । তারা দুইজন তাতে নেমে পড়লেন । এই ট্যানেলটি গতি সেকেন্ডে ৫০ আলোকবর্ষ । তারা মিনিট দুয়েক ট্যানেলে চলার পর ট্যানেল থেমে গেল। ক্যাপ্টেন এষ গ্রীসকে মিল্কিওয়ের দক্ষিণ-পূর্বকোণে অবস্থিত জেড-১৭ গ্রহে নিয়ে গেলেন । এই গ্রহটি ১০ বছর পূর্বে গ্রীস আবিস্কার করেছিল । গ্রহটির বয়স খুব কম । মাত্র ১৭০ বছর । মিল্কিওয়ের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক এখনও এই গ্রহ সম্পর্কে কিছুই জানে না । ক্যাপ্টেন এষ এই গ্রহে অনেক বড় একটি ল্যাব তৈরী করেছেন । মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির অনেক বড় বড় ১০০ জন বিশেষ বিজ্ঞানী এই গ্রহে গবেষণায় রত আছেন । আর সহকারী রবোটের সংখ্যা তো অসংখ্য ।
জেড-১৭ গ্রহের নীল মাটিতে ক্যাপ্টেন এষ আর গ্রীস একসাথে হাঁটছেন । বর্তমানে সবচেয়ে আতঙ্কিত বিষয় হলো, পৃথিবী । পৃথিবীর অধিবাসীরা অক্সিজেনের মত ভারী গ্যাস নির্ভর হওয়ায় তারা দুর্বল জাতি । আর তাদের শরীর তুলার মত তুলতুলে । কিন্তু এরপরও তারা ভয়ংকর ভয়ংকর অভিযান পরিচালনা করছে । এরই মাঝে ট্রিয়ানরা অনুমতি ব্যাতিত মিল্কিওয়ের সীমানায় প্রবেশ করে পৃথিবীতে প্রবেশ করার চেষ্টা করেছিল । শেষ পর্যন্ত মিল্কিওয়ের সৈন্যরা তাদের নির্মূল করে দিয়েছে । ওই ট্রিয়ানরাও কম নয় । তারাও মৃ্ত্যুর আগে একটি সিগন্যাল পৃথিবীতে প্রেরণ করে । এই জন্য পৃথিবীর অধিবাসীদের অনেকেই এলিয়েনদের বিশ্বাস করে । ট্রিয়ানদের পৃথিবী সম্পর্কে আগ্রহ আছে এই কারণে ,পুরো দুনিয়ায় অক্সিজেন গ্যাস নির্ভর গ্রহ শুধু পৃথিবী । আর পৃথিবীর অধিবাসীরাই শুধু অক্সিজেন নির্ভর । ক্যাপ্টেন এষ গ্রীসকে বললেন , ট্রিয়ানরা তো আমাদের কথা শুনছে না । কী করা যায় ?
গ্রীস বললো , আমাকে দায়িত্ব দিন । সেনাবাহিনী দিয়ে তাদের কয়েকটা গ্রহে আক্রমন করি । তাহলে তারা আর আমাদের সীমানায় আসার সাহস পাবে না ।
: আমরা ধ্বংস করার জন্য অস্ত্র বানাই নি ।
: এ ছাড়া তো আর কোনো উপায় দেখছি না ।
: আছে । উপায় আছে ।
: সেটা কী ? ক্যাপ্টেন ।
: মিহকে দায়িত্ব দিয়েছি , ট্রিয়ানদের চারপাশে সার্কেল তৈরী করতে ।
: কিন্তু এতে তো আমরা কিছুটা ঝামেলায় পড়বো ।
: কেমন ঝামেলা ?
: ট্রিয়ানদের সাথে আমাদের সীমানা ,একপাশে । সুতরাং আমরা একপাশে সার্কেল তৈরী করতে পারি ।
: হুম । তুমি ঠিক বলেছো । বিষয়টি আমি ভুলে গিয়েছিলাম। তুমি মিহকে একপাশেই সার্কেল তৈরী করতে বলো । আর সীমানায় নজরদারি বাড়াও । 
ইন্টারন্যাশনাল স্যাটেলাইট অব আর্থ । যুক্তরাষ্ট্রের বেলিংহোমে অবস্থিত দেশের সবচেয়ে বড় স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রক ল্যাব এটি । মহাকাশপ্রেমী বিজ্ঞানীদের স্বপ্নের জায়গা । মহাকাশের প্রায় ৭০% স্যাটেলাইট এখান থেকে পরিচালিত হয় । এখনে কর্মরত প্রত্যেক বিজ্ঞানী কাজে মত্ত আছেন । দম ফেলার ফুরসত নেই । খবর পাওয়া যাচ্ছে , জিপিএস নিয়ন্ত্রিত স্যাটেলাইটগুলো কয়েকদিন যাবৎ ভুল তথ্য দিচ্ছে । বাংলাদেশ থেকে একজন অভিযোগ করেছে , মালিবাগ থেকে সে ইয়ারপোর্ট যাবে । না চেনার কারণে সে জিপিএস চালু করে । জিপিএস দেখে প্রায় ২৫ মিনিট চলার পর বলা হয় , গন্তব্যে চলে এসেছে । সে তাকিয়ে দেখে , তাকে এয়ারপোর্ট না এনে সদরঘাট নিয়ে এসেছে । শেষে ।লোকটির থাইল্যান্ড যাওয়ার ফ্লাইট মিস হয়ে যায় । এমন আরো অনেক অভিযোগ বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছে । ল্যাবে কয়েকজন বিজ্ঞানী এই ত্রুটি নিয়ে কাজ করছেন । কিন্তু কোনো সমাধান তারা পাচ্ছে না । কারণ স্যাটেলাইটে কোনো ত্রুটি দেখা যায় নি । শেষে জিপিএস এর বড় বড় কয়েকটি স্যাটেলাইট সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে । এতে সবচেয়ে বেশি সুবিধা হয়েছে চীনের । কারণ চীনের তৈরী স্যাটেলাইটগুলোতে এমন ঝামেলা হয় নি । তাই তারা জিপিএস কন্ট্রাক্টকারী প্রতিষ্ঠান এবং গুগোলের সাথে একটি চুক্তিসই করছে । এত ক্ষিপ্ত আমেরিকা । কিন্তু কিছুই করার নেই ।
জিনজিয়াং প্রদেশ চীন । শীপ জিং স্যাটেলাইট । চীনের সবচেয়ে উন্নত স্যাটেলাইট । এটি তিন বছর পূর্বে মহাকাশে প্রেরণ করা হয়েছে । এই কৃত্তিম ‍উপগ্রহটি ভিন্ন একটি পদার্থ দ্বারা নির্মিত । আমেরিকা এই স্যাটেলাইটটি ধ্বংস করার জন্য ছয়টি স্যাটেলাইট মহাকাশে উক্ষেপণ করে । কিন্তু সেগুলো ব্যর্থ হয়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে । এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চাইনিজদের স্যাটেলাইট বানানোর কৌশল পণ্ডু করতে তাদের খ্যাতিমান কিছু বিজ্ঞানীকে হ্যাইজ্যাক করে । এদিকে চীনও কম চালাক নয় । আমেরিকার প্রেসিডেন্ট এবং আমেরিকার সেনাপ্রধানকে তারা উধাও করে ফেলে । বেচারা আমেরিকা এতে পড়ে যায় মহাবিপদে । অবশেষে চাইনিজদের বিজ্ঞানীদের মুক্ত করে দিয়েছে তারা । এরপর থেকে চাইনিজরা নতুন স্লোগান বের করেছে , চাইনিজদের সাথে ঝামেলা করা মানেই নিজেকে জীবন্ত কবর দেয়া ।
৪.
টিওটি+১২০ এটি মিল্কিওয়ের সীমান্ত পাশ্ববর্তী গ্রহ । ট্রিয়ানদের আটঁকানোর জন্য সর্ববৃহৎ সার্কেল তৈরী করেছে মিহ । ক্যাপ্টেন যেভাবে আদেশ দিয়েছেন সেভাবেই নির্মিত হচ্ছে । ট্রিয়ানরা এখনো এই সার্কেল সম্পর্কে জানে না । তারা জানলে খুব খারাপ অবস্থা হতো । টিওটি+১২০ গ্রহে এই মাত্র গ্রীস এসেছে । মিহ তাকে সার্কেলের নকশাটি দেখালো । কিন্তু গ্রীস এ বিষয়ে কোনো ইন্টারেস্টিং দেখা যাচ্ছে না । সে আহত সূরে বললো , তুমি সার্কেল নির্মানের পূর্বেই ট্রিয়ানরা আমাদের সীমানায় চলে এসেছে ।
: এটা কীভাবে সম্ভব ? হতভম্ব হয়ে বললো মিহ । 
: তাদের কিছু আচরণ গত কয়েক বছর যাবৎ আমাকে সন্দেহ সৃষ্টি করছে ।
: কেমন আচরণ ?
: টেকনোলজির দিক দিয়ে যদিও ট্রিয়ানরা আমাদের সমকক্ষ নয় । কিন্তু অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে তারা আমাদের থেকে শক্তিশালী ।
মিহ গ্রীসের কথার মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝতে পারলো না । তখনি টিওটি+১২০ গ্রহে ট্রিয়ানদের হিওকিল্যাক্সাইড শক্তিশালী বোমা আঘাত হানে । মুহুর্তের মধ্যে টিওটি+১২০ গ্রহের অর্ধেক ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়ে যায় । ট্রিয়ানরা মিল্কিওয়ের শক্তিশালী সার্কেল ভেঙ্গে ফেলেছে । মহাকাশে ট্রিয়ানদের যুদ্ধবিমানগুলো ছড়িয়ে পড়লো । ট্রিয়ানরা জানে , এই যুদ্ধবিমানগুলোর সাথে তারা লড়াই করতে পারবে না ।
ক্যাপ্টেন এষ গ্রীস এবং মিহের সাথে কন্ট্রাক্ট করার চেষ্টা করছেন । তাদেরকে লাইনে পাচ্ছেন না । এষ চিন্তিতমনে পায়চারি করতে লাগলেন । প্রায় কুড়ি মিনিট পর ক্যাপ্টেন এষ ল্যাবের মনিটরে লাল চিহ্নিত একটি স্থান দেখতে পেলেন । জলদি তিনি সেখানে গেলেন । উক্ত স্থানে একটি রবোট ধ্বংসস্থুপের পাশে পড়ে আছে । ক্যাপ্টেন এষ কম্পিউটারে কোড মেসেজটি অন করলেন । সেখানে লেখা , ক্যাপ্টেন গ্রীস TOT+120 গ্রহের গভীরে এক খাদে চাপা পড়ে আছে । ক্যাপ্টেন তৎক্ষণাত একটি বড় বাহিনী TOT+120 গ্রহে পাঠালেন । তারা ধ্বংসস্তুপে খনন কাজ শুরু করলো । প্রায় ৫ দিন পর গ্রীসের মৃতদেহ পাওয়া গেল । ক্যাপ্টেন তার মৃতদেহ দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন । কারণ গ্রীস অনেক বড় বিজ্ঞানী ছিল । কিন্তু এষ ব্যাতিত কেউ তার আবিষ্কারের কথা জানতো না । একটু পর হঠাৎ মৃতদেহটি দেখে ক্যাপ্টেন এষের কেমন যেন সন্দেহ হলো ।
আমেরিকার একটি মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রে হঠাৎ করে আড়াই হাজার লাখ আলোকবর্ষ দূরের একটি বিস্ফোরণ ধরা পড়ে । বিজ্ঞানীদের ধারণা , হিলিয়াম গ্যাসের বিস্ফোরণে এটি ঘটেছে । আমেরিকার যেই স্যাটেলাইটগুলোতে ত্রুটি ছিল , সেগুলো সারিয়ে ফেলা হয়েছে । এখন আমেরিকা চীনকে ধরাশয়ী করার জন্য ফাঁদ বানাচ্ছে । চীনের উপকূলীয় অঞ্চলে আমেরিকা বেশ কিছু হামলা চালিয়েছে । চীনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো জবাব দেয়া হয় নি ।
বেইজিং , চীন । সরকারের সাথে দেশের বড় বড় বিজ্ঞানীরা একটি গোপন বৈঠকের আয়োজন করছে । কি নিয়ে আলোচনা হতে পারে , আমেরিকার গোয়েন্দারা ধরতে পারছে না ।
জুন মাসের ১৭ তারিখ । আমেরিকার হোয়াইট হাউজের কাছে খবর এসেছে , আমেরিকান গোয়েন্দারা সফল হতে পারে নি ।
চীন সরকার বিজ্ঞানীদের বললেন , আমেরিকা আমাদের উপর ছোটখাটো হামলা শুরু করেছে । অবশ্য আমরা এখনো এর কোনো জবাব দেই নি । তাই কি করা যায় আপনারা বলেন । বিজ্ঞানীদের মধ্য হতে একজন বললেন , আমি চাচ্ছি , নতুন একটি স্যাটেলাইট তৈরী করতে ।
: এই হামলার সাথে স্যাটেলাইটের কি সম্পর্ক ?
: যেহেতু আমেরিকানরা আমাদের উপর ক্ষ্যাপা মহাকাশে কর্তৃত্ব স্থাপনের কারণে ।
: তাহলে আপনি কি স্যাটেলাইট তৈরী করতে চান ?
: বোমারু স্যাটেলাইট ।
: এটা দিয়ে কি হবে ?
: এটা অন্যান্য সকল স্যাটেলাইটকে ধ্বংস করে দিবে । এর ফলে স্যাটেলাইটের দুনিয়ায় আমরা সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হবো ।
: এটা না হয় বুঝলাম । কিন্তু আরো ডেঞ্জারাস হলো , মহাকাশ স্টেশন ।
: সেটারও ব্যবস্থা হবে ।
উপস্থিত সকল বিজ্ঞানী এ কথার উপর সম্মত হলো ।
৫.
ট্রিয়ানদের হাই সিকিউরিটি কারাগারে মিহ এবং গ্রীস বসে আছে । খুব জ্বালিয়েছে এই দু’জন । ট্রিয়ানরা তাদেরকে বুদ্ধিমত্তার সাথেই হাইজ্যাক করেছে । তারা শক্তিশালী হিওকিল্যাক্সাইড বোমা TOT+120 গ্রহে আঘাত করে । তারপর গ্রীসের মত দেখতে একটি প্রতিলিপি রবোট তারা সেই গ্রহের গভীর এক খাদে ফেলে রাখে । ট্রিয়ান গ্যালাক্সির প্রধান দৃশ গ্রীসের সাথে দেখা করতে আসে । গ্রীস তার আকৃতি দেখে খানিকটা ভয় পেয়ে যায় । কিন্তু পরক্ষণে সে নিজেকে সামলে নেয় । দৃশ তাকে জিজ্ঞাসা করে ,
: বলতো , ট্রিয়ানরা বেশি শক্তিশালী নাকি মিল্কিওয়েরা ?
: ”মিল্কিওয়েরা “ গ্রীস ভয়ে ভয়ে জবাব দেয় ।
: তাই ? তাহলে তোমরা আমাদের প্রতিরোধের চেষ্টা করো নি কেন ? “দৃশ ঠাট্টার হাসি হাসে ।
: “আমাদের ক্যাপ্টেন অচিরেই অভিযান পরিচালনা করবেন । তখন তোমরা পালানোর পথ খুঁজে পাবে না ।” গ্রীস দৃঢ় কণ্ঠে বলে ।
তখনি হঠাৎ প্রচন্ড বিস্ফোরণের শব্দ হয় । দৃশ খানিকটা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে । জলদি সে বাহিরে চলে যায় । পরক্ষণেই শক্তিশালী একটি নিউক্লিয়াম বোমা এসে কারাগারের দেয়ালে আঘাত হানে । দেয়াল ভেঙ্গে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায় । গ্রীস তাকিয়ে দেখে ,ক্যাপ্টেন এষ যুদ্ধের পোশাক পড়ে দাড়িয়ে আছে । সে ক্যাপ্টেনের নিকট যায় ।দূর থেকে মিহকেও আসতে দেখা যায় । ক্যাপ্টেন তাদেরকে নিয়ে স্পেসশীপে উঠে পড়ে । তারপর স্পেসশীপটি মিল্কিওয়ের অভিমুখে যাত্রা শুরু করে । দৃশ ভয়ার্ত দৃষ্টিতে সেদিকে তাকিয়ে থাকে ।
ইন্টারন্যাশনাল স্যাটেলাইট অব আর্থ । হঠাৎ করেই আমরিকান স্যাটেলাইটগুলোর সাথে তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে লাগলো । ল্যাবের সমস্ত বিজ্ঞানী মনিটরে সিগন্যাল বিচ্ছিন্ন হওয়া স্যাটেলাইটগুলোর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করতে লাগলেন । কিন্তু ব্যর্থ তারা । শেষে উপায় না পেয়ে তারা মহাকাশ স্টেশনের সাথে যোগাযোগ করলো । কিন্তু এখানেও তারা ব্যর্থ হলেন । তখনি একটি স্যাটেলাইট হঠাৎ অ্যাকটিভ হলো । সেটা ওপেন করার পর দেখা গেলো ,মহাকাশে নাটকীয় হামলার শিকার সকল স্যাটেলাইট । পরমুহুর্তেই সেই স্যাটেলাইটটিও ধ্বংসপ্রাপ্ত হলো । আমেরিকানরা বুঝতে পারলো , এটা চীনের কাজ । তারা চীনের সাথে যোগাযোগ করলো । ফলাফল শূন্য । পরমুহুর্তেই চীনের একটি জনপ্রিয় ওয়েবসাইটে একটি পোস্ট দেখা গেল । “মহাকাশে আমেরিকার হস্তক্ষেপ । দায়ী কারা ?“ এই শিরোনামে । চায়নারা এই হামলার জন্য আমেরিকাকে কূটনৈতিকভাবে দায়ী করতে লাগলো । এতে আমেরিকা আরো ক্ষেপে গেল । পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে গেল । আমেরিকা সরকার উচ্চপদস্থ সকলকে ডেকে একটি গোপন বৈঠক করলো । সিদ্ধান্ত হলো , তারা চীনের উপর আক্রমণ করবে ।
বেইজিং, চীন । প্রেসিডেন্ট ভবনে দেশের বড় বড় বিজ্ঞানী , মন্ত্রী, সেনাবাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত হলো । তারা জানে, আমেরিকা এখন চীনের উপর আক্রমণ করবে । দেশের সেনাপ্রধান বললেন, আমরা সাগরে যুদ্ধ জাহাজগুলো নামিয়ে দেই । সেগুলো সাগরে টহল দিবে । আর স্থলে যুদ্ধ হেলিকপ্টারগুলোকে টহল দিতে বলি ।
সাগর প্রতিরক্ষামন্ত্রী বললেন, তারা বেশিরভাগ সময় ড্রোন হামলা করতে পারে । আর সাবমেরিন দিয়ে আক্রমণ করতে পারে ।
একজন বিজ্ঞানী বললেন, মহাকাশে যেহেতু এখন সব আমাদের স্যাটেলাইটগুলো আছে, তাই আমরা আমেরিকার কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করতে পারি ।
উপস্থিত সকলে উক্ত সিদ্ধান্তে একমত হলো । আপাতত আমেরিকা কবে নাগাত আক্রমণ শুরু করে তার কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই । এদিকে চায়নারা মহাকাশ স্টেশনের সম্পূন্ন নিয়ন্ত্রণ নিজেরা নিয়ে নিল । এ জন্য আমেরিকা আরো বেশি ক্ষেপে আছে । যে কোনো মুহুর্তে তারা আক্রমণ করতে পারে ।
৬.
PK-100 ট্রিয়ান গ্যালাক্সির শক্তিশালী গ্রহ । ট্রিয়ানদের প্রধান দৃশ একটি ৬০০ তলা বিল্ডিংয়ের ছাদে পায়চারি করছেন । তার কল্পনাজুড়ে এখন একটাই জিনিষ ঘুরপাক খাচ্ছে । সেটা হলো , মিল্কিওয়েদের ধ্বংস বা কবজা করতে হবে । দৃশ ট্রিয়ান গ্যালাক্সির প্রধান বিজ্ঞানী নুবকে ডাকলেন। দেড় মিনিটের মধ্যেই সে উপস্থিত হলো । দৃশ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আচ্ছা মিল্কিওয়েদের দুর্বল স্থান কোনটি ?
মহাবিজ্ঞানী নুব বললেন, সেটা মিল্কিওয়ের কেন্দ্রের দিকে অবস্থিত পৃথিবী ।
: কিন্তু আমরা মিল্কিওয়ের শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙ্গে কিভাবে পৃথিবীর নিকটবর্তী হবো ?
: বিষয়টা যদিও কঠিন । তবে উপায় আছে ।
: কি সেই উপায় ?
: আমরা সীমান্ত ডিঙ্গিয়ে মিল্কিওয়েদের সাথে যুদ্ধ করবো । তখন তাদের পুরো দৃষ্টি এদিকে থাকবে । অপরদিকে আমাদের গোপন একটি টিম পৃথিবীতে আক্রমণ করবে ।
দৃশ এই প্রস্তাবে সম্মত হলো । সে ট্রিয়ান সৈন্যদের একত্র হওয়ার আহ্বান জানালো । শক্তিশালী মিল্কিওয়েদের শক্তিহীন করে তারপর তারা ঘরে ফিরবে ।
চীনের সাথে ইতিমধ্যেই আমেরিকানদের হাতাহাতি শুরু হয়ে গিয়েছে । আমেরিকানরা তিনটা চাইনিজ জাহাজ ধ্বংস করলো । আর চাইনিজরা আমরিকানদের পাঁচটা সাবমেরিন , ১০টা হেলিকপ্টার, ৮টা যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করেছে । আমেরিকা-চাইনিজ যুদ্ধ আস্তে আস্তে বিশ্বযুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে । চিন্তাবিদরা তাই এই যুদ্ধ নিয়ে খুব শঙ্কায় আছেন ।
ট্রিয়ানরা মিল্কিওয়ের সাথে হঠাৎ যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছে । ক্যাপ্টেন এষ এই যুদ্ধ নিয়ে খানিকটা চিন্তিত । ট্রিয়ানরা হঠাৎ কেন যুদ্ধ চাচ্ছে, ক্যাপ্টেন এষ তা বুঝতে পারছেন না । মিল্কিওয়েরা প্রথমে আক্রমণ করতে চায় নি। শেষে বাধ্য হয়ে প্রতিরক্ষামূলক আত্রমণে নেমেছে তারা ।
দৃশ সীমান্তে যুদ্ধ লাগিয়ে খুবই গোপনে একটি শক্তিশালী স্পেসশীপ নিয়ে মিল্কিওয়ের ভিতরে প্রবেশ করলেন। তাদের টার্গেট পৃথিবী । প্রায় ঘড়ির টাইমে ১৮৩ ঘন্টা চলার পর তারা পৃথিবীর সৌরজগতে প্রবেশ করলো । পৃথিবীকে টার্গেট করে শক্তিশালী একটি বোম ফিট করলো তারা । কিছুক্ষণ পরই এটি পৃথিবী অভিমুখে গিয়ে আঘাত হানবে । দৃশ গুনতে লাগলেন, দশ.........নয়............আট............সাত...........ছয়..........পাঁচ.........চার....... তিন.................দুই..............এক ।
ক্যাপ্টেন এষ বুঝতে পারছিলেন না , কেন ট্রিয়ানরা আক্রমণ করছে । তিনি চিন্তিতমনে পায়চারি করছিলেন। সে সময় মিহ এবং গ্রীস তার নিকট আসলো । তিনি তাদেরকে বললেন, ট্রিয়ানরা হঠাৎ আমাদের উপর চটে আছে কেন ?
গ্রীস বললেন, আমরা তো জানি না । একটা কাজ করলে কেমন হয় ?
ক্যাপ্টেন এষ এবং মিহ একসাথে বললেন, কি কাজ ?
গ্রীস বললেন, আমরা ট্রিয়ানদের বড় বড় কর্মকর্তাদের কাউকে হাইজ্যাক করি । তখন তাদের থেকে জেনে নিবো ।
ক্যাপ্টেন এষ এই সিদ্ধান্তে সম্মত হলেন। তারা ট্রিয়ানদের প্রধান বিজ্ঞানী নুবের ব্যাক্তিগত রবোটকে হাইজ্যাক করলো । সেখান থেকে সকল তথ্য বেরিয়ে পড়লো। ক্যাপ্টেন এষ ট্রিয়ানদের এই ভয়ংকর কার্যকলাপের কথা জেনেতৎক্ষণাত পৃথিবী অভিমুখে রওয়ানা হলেন। দৃশ পৃথিবীর দিকে শক্তিশালী বোমাটি আঘাত হানার জন্য যখন বাটনে ক্লিক করলো তখনি বোমটি অ্যাকটিভ হয়ে গেল । সে সময় হঠাৎ পৃথিবীর সামনে বিশাল এক বড় নভোযান দেখতে পেল দৃশ । তাতে ক্যাপ্টেন এষ এবং মিহ,গ্রীস বসে আছে । যখনি দৃশদের বোমাটি অ্যাকটিভ হলো তখনি ক্যাপ্টেন এষ ছোট একটি বোম সেদিকে নিক্ষেপ করলেন । মূহুর্তের মধ্যেই নারকীয় হামলার শিকার হলো দৃশ । তার বোম তার উপরই বিস্ফোরিত হলো ।এতে প্রচণ্ড তাপ সৃষ্টি হলো সৌর জগতে । সেই তাপে পৃথিবীর অনেক পানি বাষ্প হয়ে উড়ে গেল । এবং পৃথিবীর সমস্ত টেকনোলজি অকেজো হয়ে গেল । পৃথিবী ফিরে গেল আবার প্রাচীন যুগে । তবে যাওয়ার আগে তারা খানিকটা দেখতে পেয়েছিল এলিয়েনদের লড়াই । পৃথিবী আবার সাজলো নতুন করে। আবার ফিরে আসলো চিঠির যুগ । মানুষ আবার আরোহণ করতে লাগলো ঘোড়া এবং গাধার পিঠে । শাসনব্যবস্থা আবার ফিরে গেল রাজা-এবং খলীফাদের আমলে । পৃথিবীতে শান্তি ফিরে এলো । মাঝখানে ৪০০ বছর হয়ে গেল সবচেয়ে নোংরা কিছু শতাব্দি । যাকে তখন মানুষ ঘৃণাভরে স্বরণ করে ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(আমি সম্মত !) #days=(20)

আসসালামু আলাইকুম, আশা করি আপনি ভালো আছেন। আমার সম্পর্কে আরো জানুনLearn More
Accept !