পাখির প্রতি ভালোবাসা

0

** আবদুর রহমান আল হাসান **

“ভাইয়া, পাখিগুলো ঝগড়া করে একটা অন্যটার চোখ নষ্ট করে ফেলেছে” আমাকে আমার ছোট বোন ডাক দিয়ে বললো। আমি তখন খাটে বসে একটা আর্টিকেল লিখছিলাম। দিন দু’য়েক হলো পাখিগুলো আব্বু কিনে এনেছে। ছোটবোনের পীঁড়াপিড়িতে শেষ পর্যন্ত আব্বু না কিনে পারলেন না। আমরা কখনো পাখি প্রতিপ্রালন করি নি। ছোটবেলা থেকেই ঢাকায় বেড়ে উঠায় কুকুর দেখলে আজও ভয় পাই। কাক যদি আমার দিকে তেড়ে আসে তাহলে তো আমি মনে করবো আমার মৃত্যু নিশ্চিত। এতটাই ভীতু ছোটবেলা থেকেই। আগে কখনো পাখি ধরি নি। ছোটবেলায় গ্রামে মুরগীর বাচ্চা ধরতে গিয়ে তাদের সুঁচালো ঠোঁট দিয়ে ঠোকর খাওয়ার কথা আজও ভুলি নি। তারপরও মানবতার খাতিরে বা দায়িত্ববোধের কারণে বারান্দায় গেলাম। চারটা কোয়েল পাখি খাঁচায় লাফালাফি করছে। এদের মধ্যে একটা অন্য তিনটিকে জ্বালাচ্ছে গতকাল থেকেই। সেটাই একটা পাখিকে ঠোঁকর দিয়েছে চোখের নিচে। কি করা উচিৎ, বুঝতে পারছি না। আমরা না হয় শহরের মামলেট হয়েছি। কিন্তু আমার আম্মু তিনি তো গ্রামেই বেড়ে উঠেছেন। ছোটবেলায় তিনি দেখেছেন, দুটো মুরগী একটা অন্যটাকে ঠোঁকরালে হলূদের গুঁড়ো ক্ষতস্থানে লাগিয়ে দেয়া হতো। তিনিও তাই করলেন। পাখিটির চোখে হলুদের গুঁড়ো লাগিয়ে দিলেন। আমার এ সম্পর্কে কোনো অভিজ্ঞতা নেই। এই প্রথম পাখিদের প্রতি কেমন যেন একটা টান অনুভব করলাম। আহত পাখিটিকে কম্পিত হস্তে ধরলাম। সেও কোনো প্রতিবাদ করলো না। শান্ত স্বভাবের নিরীহ একটা পাখি। আদর করে চোখে হাত বুলিয়ে দিলাম। খানিকটা যেন স্বস্তি পেল সে। তাকে কিছুক্ষণ হাতে রাখার পর মাটিতে একপাশে রেখে দিলাম। আমার ছোটভাই হামিদ এবং ছোটবোন দেখি কাদঁতেছে। হাবিবা তো পাখিটির চোখে হলুদের গুড়ো লাগাতেই দেয় নি। সে ভয় পাচ্ছে, না জানি আবার তার চোখ নষ্ট হয়ে যায়। আমিও খানিকটা দ্বিধার মধ্যে ছিলাম। পাখিগুলোর সুবিধার্থে আমি অন্য তিনটি পাখি থেকে রাগি পাখিটিকে আলাদা করে ফেলি। মযলুম তিনটা একসাথে আর রাগী পাখিটা একাকী বসে রইলো। কিছুক্ষণ পর পর বারান্দায় গিয়ে তাদের খোঁজ খবর দেয়াটা কেমন যেন অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেল। এভাবেই রাত কেঁটে যায়।

ভোরের সূর্য উদিত হয়। পূর্বাকাশে দেখা দেয় সোনালী রদ্দূর। সেই আলো পানির উপর পড়ে চিকচিক করছে। যেন ঝিনুকের মুক্তোমালা হয়ে সেগুলো প্রস্ফুটিত হচ্ছে। মুয়াজ্জিনের ফজরের আযান পরিবেশকে মুখরিত করে তুললো। শুরু হলো নতুন দিন। নতুন অধ্যায়। নতুন বাস্তবতা। নতুন আশা-নিরাশা। সকাল হলো। ফজরের নামাজ শেষ করে পাখিগুলোর কাছে গেলাম। তারাও হয়তো ঘুমিয়েছে। আমি তাদের সামনে যেতেই চিঁও চিঁও করে ডেকে উঠলো। খাঁচা খুলে সেগুলোকে বের করলাম। অসুস্থ পাখিটিকে দেখি, সুস্থ হয়ে গেছে। তার চোখ খানিকটা ভালো হয়ে গেছে। গতকাল সে নিস্তেজ হয়ে ছিল। আজ সে লাফালাফি শুরু করলো। আমি এবার রাগী পাখিটার দিকে দৃষ্টি দিলাম। সারারাত তাকে আলাদা করে রাখা হয়েছিল। সে এখন শান্ত। পাখিগুলোকে খাবার দিয়ে আমি প্রতিদিনকার মতো প্রস্তুতি নিতে লাগলাম মাদরাসায় যাওয়ার। ইলম শিক্ষার জন্য যেতে হবে সেই দূর-বহুদূর। সেই পথ বড়ই সংকীর্ণ। সবাই তা পাড়ি দিতে পারে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(আমি সম্মত !) #days=(20)

আসসালামু আলাইকুম, আশা করি আপনি ভালো আছেন। আমার সম্পর্কে আরো জানুনLearn More
Accept !